সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি…?

পৃথিবীতে যত পাপ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর গুনাহ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করা। পৃথিবীতে শিরকের চেয়ে জঘণ্য আর গুনাহ নেই। যে আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ছাড়া আমাদের একটি মুহূর্তও কাটে না, কাউকে তাঁর সমকক্ষ, সমতুল্য বা সমমর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার চেয়ে বড় অপরাধ আর কী হতে পারে? তাই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,
إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ وَمَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱفۡتَرَىٰٓ إِثۡمًا عَظِيمًا ٤٨ [النساء: ٤٨]
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে। [সূরা আন-নিসা, আয়াত : ৪৮]
আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, তুমি কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করবে; অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। [বুখারী : ৬০০১; মুসলিম : ৮৬]
আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার অর্থ আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি অন্য কারও ইবাদত করা। তাঁর দাসত্বের স্বীকৃতির পাশাপাশি অন্য কারও দাসত্বও মেনে নেওয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তোমরা ইবাদাত কর আল্লাহর, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করো না। [সূরা আন-নিসা, আয়াত : ৩৬]
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, বল, আমাকে কেবল আদেশ দেয়া হয়েছে, যেন আমি আল্লাহর ইবাদাত করি এবং তাঁর সাথে শরীক না করি। [সূরা আর-রাদ, আয়াত : ৩৬]
শিরকের প্রথম প্রকার : আল্লাহর সঙ্গে বা তাঁকে ছাড়াই ফেরেশতা বা নবীদের উদ্দেশে ইবাদত করা। যে তাদের ইবাদত করবে সে আল্লাহর সঙ্গে কুফুরী করবে এবং নিজ মুনিবের সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্তকারী হিসেবে গন্য হবে। আল্লাহ বলেন, আর তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ করেন না যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীদেরকে রব রূপে গ্রহণ কর। তোমরা মুসলিম হওয়ার পর তিনি কি তোমাদেরকে কুফরীর নির্দেশ দিবেন? [সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ৮০]
শিরকের দ্বিতীয় প্রকার : আল্লাহর সঙ্গে বা তাঁকে ছাড়াই ওলী-বুযুর্গানের উদ্দেশে ইবাদত করা। যে তাদের ইবাদত করবে সে নিজ মুনিবের সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করবে। আল্লাহ বলেন,তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিতগণ ও সংসার-বিরাগী বুযুর্গদের রব হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়ামপুত্র মাসীহকেও। অথচ তারা এক ইলাহের ইবাদত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছে, তিনি ছাড়া কোনো (হক) ইলাহ নেই। তারা যে শরীক করে তিনি তা থেকে পবিত্র। [সূরা আত-তাওবা, আয়াত : ৩১]
আর তারা বলে, তোমরা তোমাদের উপাস্যদের বর্জন করো না; বর্জন করো না ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসরকে। [সূরা নূহ, আয়াত : ২৩]
ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসর- এদের প্রত্যেকেই ছিলেন একেকজন পুণ্যবান মানব ও বুযুর্গ ব্যক্তিত্ব। আল্লাহর সন্তুষ্টির সঙ্গে তারা এসব ব্যক্তির সন্তুষ্টিও খুঁজত ইবাদতে। তাই বুযুর্গকে খুশী করতে কোনো ইবাদতের অবকাশ নেই।
শিরকের তৃতীয় প্রকার : আল্লাহর সঙ্গে বা তাঁকে ছাড়াই বৃক্ষরাজি বা ইট-পাথরের উদ্দেশে ইবাদত তথা ভক্তি নিবেদন করা। যে এসবের উদ্দেশে ভক্তি নিবেদন করবে সে নিজ মুনিবের সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করবে। আল্লাহ বলেন, তোমরা লাত ও উয্যা সম্পর্কে আমাকে বল? আর মানাত সম্পর্কে, যা তৃতীয় আরেকটি? [সূরা আন-নাজম, আয়াত : ১৯-২০]
শিরকের চতুর্থ প্রকার : শয়তানের উদ্দেশে ইবাদত তথা ভক্তি নিবেদন করা। আল্লাহ বলেন, হে বনী আদম, আমি কি তোমাদেরকে এ মর্মে নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শয়তানের উপাসনা করো না। নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? আর আমারই ইবাদাত কর। এটিই সরল পথ। [সূরা ইয়াসীন, আয়াত : ৬০-৬১]
এক কথায় রহমান আল্লাহ ছাড়া যার উদ্দেশেই ভক্তি-ইবাদত নিবেদন করা হবে তা শয়তানের জন্য বলে গণ্য হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আল্লাহ ছাড়া তারা শুধু নারীমূর্তিকে ডাকে এবং কেবল অবাধ্য শয়তানকে ডাকে। আল্লাহ তাকে লানত করেছেন এবং সে বলেছে, অবশ্যই আমি তোমার বান্দাদের এক নির্দিষ্ট অংশকে (অনুসারী হিসেবে) গ্রহণ করব। [সূরা আন-নিসা, আয়াত : ১১৭-১১৮]
আবূ তোফায়েল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালেদ ইবন ওলীদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নাখলাহ নামক স্থানে পাঠালেন। সেখানে উজ্জা নামের মূর্তি ছিল। খালেদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেখানে গেলেন। সেটি ছিল তিনটি গাছের উপর স্থাপিত। তিনি গাছগুলো কেটে ফেললেন এবং তার ওপরের ঘর ভেঙ্গে দিলেন। পরবর্তীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলেন এবং এ ব্যাপারটি অবহিত করলেন। তিনি বললেন, তুমি ফিরে গিয়ে দেখ, কোনো কাজই করোনি তুমি। তখন খালেদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেখানে পুনরায় গেলেন। খালেদ ফিরে গেলেন। তাকে দেখে (ওই আশ্রমের) প্রহরীরা, হে উজ্জা হে উজ্জা বলে পাহাড়ের আড়ালে পলায়ন করল। খালেদ তার সামনে পৌঁছামাত্র এক চুল খোলা উলঙ্গ নারীকে দেখলেন সে নিজের মাথায় মাটি নিক্ষেপ করছে। তিনি তাকে তরবারি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে এসে বৃত্তান্ত তুলে ধরলেন। শুনে তিনি বললেন, সে ছিল উজ্জা। [নাসায়ী, সুনান আল-কুবরা : ১১৪৮৩]
মোটকথা, শয়তান তার কণ্ঠ ও কর্ম দিয়ে মুশরিকদের বিভ্রান্ত করেছে। অথচ তারা ভেবেছে এ বুঝি কেবল একটি চিত্র বা কবরস্থ কেউ। কিয়ামত পর্যন্তই সে এভাবে ছলে-বলে-কৌশলে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে যাবে। আমাদের কর্তব্য হবে, সর্বদা শয়তানের চক্রান্ত ও প্ররোচনা সম্পর্কে সতর্ক থাকা। আল্লাহর কাছে দিবারাত্র শয়তানের কুমন্ত্রণা ও কূটচাল থেকে বাঁচার জন্য প্রার্থনা করা। আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরনের শির্ক থেকে দূরে থাকার তাওফীক দান করুন। আমাদেরকে শির্কমুক্ত ঈমান নিয়ে কবরের যাত্রী বানান। আমীন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Siam Ahmed Full Biography, Age, Height, Weight, Wife & Pictures

Travel Tax And Port Fee | ভ্রমণ কর ও পোর্ট ফি দিতে হয় | India Travel

  Travel Tax And Port Fee | ভ্রমণ কর ও পোর্ট ফি দিতে হয় | India Travel highlights ইন্ডিয়া ভ্রমণ ট্যাক্স কত টাকা বেনাপোল পোর্ট ফি কত বাংলাদেশ ভ্রমণ ট্যাক্স কত বাংলাদেশে ভ্রমণ কর গ্রহণ করে কোন ব্যাংক ট্রাভেল ট্যাক্স কি #Travel_tax #port_fee #India_travel ট্রাভেল ট্যাক্স,পোর্ট ফি,বেনাপোল পোর্ট,indian travel tax,port fee,ভ্রমণ কর

চা কপি বানিয়ে ভাইরাল হওয়া সেই ব্যক্তি | শূন্য থেকে চা কপি বিক্রি থেকে সফ...

নগদ নয় টাকায় ক্যাশ আউট | কিভাবে সম্ভব | Nagod 9 taka cashout

 

ভারতে চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন কেন যাবেন || চেন্নাই এপোলো নাকি ভেলোর স...