SLIDER

Navigation-Menus (Do Not Edit Here!)

ভাটা পড়া শয্যায় জোয়ার আনুন

সংসার জীবনে সকালে অফিসের জন্য তাড়াহুড়া, ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠানো, বাজার করা ইত্যাদি নানান কারণে সংসারজীবনে প্রেম-ভালোবাসা চাপা পড়ে যায়। যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে
(যা অবধারিতভাবে সব দম্পতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য) তখনই একজন আরেকজনকে দোষারোপ করা শুরু করে। তাই অভিযোগ না করে প্রেমের চর্চা করা শুরু করুন। কারণ সবকিছুর মতো ভালোবাসার জন্যেও চর্চা করতে হয়। আর চর্চা ছাড়া কোনো প্রেম বা সম্পর্কই টেকসই হয় না।
১. চমকে দিন পার্টনারকে:
স্বামীকে চমকে দেওয়ার মত কিছু করুন।  স্বামী-স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর পছন্দের সিনেমা দেখতে যাওয়া যেতে পারে। অথবা এমন কোনও জায়গায় একসঙ্গে যান যেখানে আপনার পার্টনার যেতে পছন্দ করেন। পাশাপাশি তাঁর আনন্দগুলোও উপভোগ করুন।
২. কারণ ছাড়াও সেলিব্রেট করুন:
সাইকোলজি বলে, পুরুষরা চান তাঁকে যেন সব কাজে যুক্ত রাখা হয়। যদিও তারা ঘরদোর পরিষ্কার করা, রান্না করার মতো বিষয়গুলো এড়িয়ে চলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাইকোথেরাপিস্ট এবং ‘দ্য পাথওয়ে টু লাভ’ বইয়ের লেখক জুলি অর্লভ বলেন, “যখনই কোনও পুরুষকে প্রয়োজনীয় ভাবা হয় এবং তাঁকে সম্মান দেওয়া হয়, তখনই তিনি খুশি হন।” তিনি আরও বলেন, এর জন্য বেশি কিছু করার দরকার নেই। তাঁর কথায় গুরুত্ব দিলেও ঢের।
৩. একে অপরকে ধন্যবাদ দিন
সংসারের অনেক ধরনের কাজ। কাজের ফাঁকে দুজন দুজনকে কখনও ধন্যবাদ দিয়েছেন কি? যদি না দিয়ে থাকেন তবে আজ থেকেই শুরু করুন। ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়া’র ন্যাশনাল ম্যারেজ প্রজেক্টের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, দীর্ঘ চুম্বনের সঙ্গে ধন্যবাদ বা থ্যাংক ইউ বললে স্বামী/স্ত্রী খুশি হন। আসলে সবাই চায় ‘ওয়েল ডান’ বলে তাঁকে যেন ধন্যবাদ দেওয়া হয়।
৪. শারীরিক সম্পর্কে নতুনত্ব
বেশিরভাগ স্ত্রী বাসার নিরাপদ পরিবেশেই স্বামীর সঙ্গে সহবাস করেন। এটা স্ত্রীর জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও, বেশিভাগ ক্ষেত্রেই এই সম্পর্কে নীরসভাব চলে আসে। তাই আমেরিকার ফ্যামিলি থেরাপিস্ট ক্যারিন গোল্ডস্টেইন পরামর্শ, ‘স্বস্তিদায়ক পরিবেশ’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সম্প্রতি একটি নিরোধ প্রস্তুতকারক সংস্থার সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ৩২ শতাংশ আমেরিকান দম্পতি বাড়ির বাইরে মিলিত হন। আপনার যদি শারীরিক সম্পর্কের আকর্ষণে ভাটা পড়েছে বলে মনে হয়, তবে বেড়িয়ে পরার এখনই সময়।
৫. হঠাৎ ছুটি
সংসারে হাঁফিয়ে উঠলে অনেক সময় দুজনকেই ছুটি নিতে হবে। এক্ষেত্রে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা চিন্তা করতে পারেন, সেটাই হতে পারে চমক। কোথাও বেড়ানোর আয়োজন করে সঙ্গীকে চমকে দেওয়ার মধ্যেও সম্পর্ক উন্নতি ঘটে।
৬. স্বামীকে তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে দিন
মেয়েলি আড্ডার যেমন একটা আনন্দ আছে, তেমনি ছেলেদের আড্ডার মধ্যেও একটা আলাদা ব্যাপার আছে। তাই অন্তত সময় করে স্বামীকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিন। বন্ধুদের সঙ্গে নির্মল আড্ডার পর আপনার স্বামীকে টাটকা ও সতেজ হিসেবে ফেরত পাবেন, আর সেটার কৃতিত্ব স্ত্রী হিসেবে আপনারই।
৭. আকর্ষণীয় টেক্সট বা ফটো
সারাদিনে বিভিন্ন কাজের মাঝে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা খুব কমই হয়। এক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে মেসেজ বা হিউমারাস ছবি আদান প্রদান করে সম্পর্কের টক-ঝাল-সম্পর্কটা বজায় রাখা যেতে পারে। আর এই যুগের মানসিকতা হলে ‘ডিজিটাল প্রেম’ তো লাগবেই।
৮. শখ বজায় থাকুক
বিয়ের আগে যেসব শখ আনন্দ দিত, বিয়ের পর হয়ত অনেকদিন সেসব শখ পূরণ করা হয়নি। এবার সময় এসেছে সেগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করার। স্বামীর যদি ক্রিকেট খেলা পছন্দ হয় তবে সঙ্গী হিসেবে স্ত্রী হয়ে সেই খেলা দেখতে যেতে পারেন। অথবা ঘরেই খেলা দেখার সময় সঙ্গ দেওয়া যায়। অনেকে মনে করেন এই ফাঁকে একটু নিজের মতো থাকা যাক। আসলে এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দূরত্ব তৈরি করে। স্বামী হিসেবে না হয় মাঝেমধ্যে স্ত্রীর সঙ্গে ‘শপিং’ করতে গেলেন। শখ পূরণের মধ্যেও ভালোবাসার চর্চা করা যায়।
৯. শয্যায় অন্তরঙ্গতা বাড়ুক
এক্ষেত্রে স্ত্রীকেও বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। সাইকোথেরাপিস্টরা বলেন, “ছেলেরা ক্যান্ডেল লাইট ডিনার-এর চাইতে শয্যাতেই প্রেম খুঁজে পায় বেশি।  নারীরা যেভাবে প্রেম অনুভব করেন, পুরুষেরা সেভাবে করেন না।  অনেকদিনের বিবাহিত জীবনে শারীরিক সম্পর্কে যদি ভাটা পড়ে তবে প্রেমটাও উবে যেতে থাকে। তাই স্বামীকে চমক দিতে না হয়, আকর্ষণীয় পোশাক বা ‘লঁজারি’ পড়ে স্বামীর সঙ্গে আরও নিবিঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

Pages