SLIDER

Navigation-Menus (Do Not Edit Here!)

মিলনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায় যেসব কৌশলে

দাম্পত্য জীবনে যৌনতা একটি অপরিহার্য জৈবিক চাহিদা, এটি অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। যে দাম্পত্যে যৌন সফলতা নেই সেখানেই অশান্তি। শুধুমাত্র পুরুষের ব্যর্থতার কারনে অনেক দাম্পত্যে নেমে আসে অশান্তি, স্ত্রী জড়িয়ে পড়ে পরকীয়ায়।
ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ। কখনো কখনো সম্পর্কের চরম অবনতিতে এটি গড়ায় খুন-খারাবি পর্যন্ত। এমন উদাহরণ আমাদের চোখের সামনেই আছে অনেক। এমন দুটি ঘটনার উদাহরণ দিলাম, প্রয়োজনে পড়ে দেখতে পারেনঃ
ঘটনা ১ঃ যৌন অক্ষমতার অপমানে প্রাণ দিতে হলো স্বামীকে
ঘটনা ২ঃ দাম্পত্য অক্ষমতা ঢাকতেই নববধূ খুন!
যৌনতা যদিও একটি শারীরিক সক্ষমতার বিষয়, তবুও এতে মানষিক স্থিতিশিলতার প্রয়োজন আছে। তাই এই লেখাটিতে ডাক্তার ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। কোন পুরুষ তার শারীরিক অক্ষমতার কথা সহজে কাউকে মুখে বলতে পারেনা। আশাকরি তাদের জন্য লেখাটি কাজে আসবে।
যাইহোক, এবার আসি আসল কথায়। অনেক পুরুষই বিয়ের পূর্বে ভবিষ্যত যৌন জীবন নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। ফলে না বুঝেই অনেকে বিভিন্ন প্ররোচনায় যৌন শক্তি বর্ধক ওষুধ সেবন করে প্রতারিত হচ্ছেন ও শারীরিক ক্ষতি করছেন। তাদের জন্য পরামর্শ, ওষুধ সেবন করে হয়ত সাময়িকভাবে শক্তি বৃদ্ধি করা যায়, কিন্তু এতে আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন দীর্ঘমেয়াদী। তাই আপনাকে আগে দেখতে হবে মিলনের সময় কোন সমস্যার সম্মূখীন হন? সেইসাথে নারীরাও কিছু সমস্যার সম্মূখীন হন যার ফলে পুরুষ সঙ্গী ব্যর্থ হতে পারে। তাই পরিতৃপ্ত হতে উভয়ের সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।
মিলনের সময় পুরুষরা নিম্নোক্ত সমস্যার সম্মূখীন হতে পারেনঃ
১) Penis(লিঙ্গ) উত্তেজিত না হওয়া অথবা উত্তেজিত হওয়া Penis নিস্তেজ হয়ে যাওয়া।
২) দ্রুত বীর্যপাত হওয়া।
৩) হাঁপিয়ে যাওয়া বা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া।
মিলনের সময় নারীরা নিম্নোক্ত সমস্যার সম্মূখীন হতে পারেনঃ
১) উত্তেজনা থাকে কিন্তু Vagina(যোনি)-র পিচ্ছিলতা কমে যাওয়া।
২) পরিতৃপ্ত না হওয়া।
একটি কৌশল মনে রাখতে হবে, Vagina-তে Penis প্রবেশের পূর্বে নারী সঙ্গীকে পর্যাপ্ত উত্তেজিত করে নেওয়া উচিত। যেটাকে আমরা আদর করা বলে থাকি। সেক্স গাইডের ভাষায় যেটাকে বলা হয় শৃঙ্গার। উপর্যুপরি শৃঙ্গার এর মাধ্যমে নারী সঙ্গীকে পর্যাপ্ত উত্তেজিত করতে পারলে তাকে দ্রুত পরিতৃপ্ত করা সম্ভব।
এবার আসুন জানার চেষ্টা করি, সমস্যাগুলোর সমাধান কিভাবে করা সম্ভব। প্রথমে পুরুষদের সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করিঃ

১) Penis উত্তেজিত না হওয়া অথবা উত্তেজিত হওয়া Penis নিস্তেজ হয়ে যাওয়াঃ
অনেক পুরুষ আছেন যাদের কোন কারণ ছাড়াই কখনো কখনো মিলনের সময় Penis উত্তেজিত হয় না। অথবা কখনো কখনো উত্তেজিত হওয়া Penis মিলনের মূহুর্তে নিস্তেজ হয়ে যায় এবং চেষ্টা করেও উত্তেজিত করা সম্ভব হয় না। এধরনের অবস্থা তৈরী হয় সাধারনত শরীর দূর্বল থাকলে অথবা মাথায় কোন দুশ্চিন্তা থাকলে। মন চাইতে পারে, কিন্তু আপনার শরীর এ বিষয়ে রেসপন্স করছে না, সুতরাং এ অবস্থায় মিলিত হতে গিয়ে নারী সঙ্গীকে উত্তেজিত করলেন ঠিকই, কিন্তু নিজে নিস্তেজ হয়ে পড়েছেন, ফলে আপনার সঙ্গী বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেল, তার মনে হতাশা আসতে পারে। তাই এ অবস্থায় প্রথম পরামর্শ হচ্ছে, শরীর দূর্বল থাকলে মিলিত হতে না যাওয়া। দ্বিতীয়ত শরীরে দূর্বলতা নেই কিন্তু তারপরও এই সমস্যার সম্মূখীন হচ্ছেন, তাহলে এ অবস্থায় চিন্তায় পরিবর্তন ঘটাতে হবে। নিজেকে যৌন চিন্তায় মগ্ন করে Penis-কে উত্তেজিত করতে হবে। এরপরও যদি Penis উত্তেজিত না হয় তবে, Penis-এ পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করলে Penis গরম অনুভূত হতে পারে এবং এভাবে উত্তেজিত করার চেষ্টা করুন। কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই Penis উত্তেজিত হতে শুরু করবে।
২) দ্রুত বীর্যপাত হওয়াঃ
অনেক পুরুষের ক্ষেত্রেই দেখা যায় মিলনের সময় দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে মাত্র ১ বা ২ মিনিটের ভিতরই এটা ঘটে যায়। এই সমস্যা দূর করতে কৌশলী হতে হবে। যাদের এই সমস্যা দেখা দেয়, তারা কনডম ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে একটু উন্নতমানের কনডম ব্যবহার ভাল ফল দিতে পারে। শুরুতেই কনডম ব্যবহার না করে বরং বীর্যপাত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার আগেই নিজেকে থামিয়ে দিয়ে কনডম ব্যবহার করতে পারেন এবং ক্রিয়া চলাকালীন সময়ে চিন্তাভাবনা যৌনতা থেকে ফিরিয়ে অন্যদিকে নিতে হবে। ক্রিয়া চলাকালীন সময়ে মাঝে মাঝে সিটিং(আসন) বা ষ্টাইল পরিবর্তন করে নিতে পারেন এবং কয়েক মূহুর্তের জন্য বিরতি নিতে পারেন। এক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী দাড়িয়ে আসন নিলে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আরও একটি কৌশল হলো, শুরুতেই দ্রুত গতিতে ক্রিয়া না করে ধীরে শুরু করতে হবে এবং সময়ের ব্যবধানে গতি বাড়াতে হবে। শুরুতেই দ্রুত গতিতে ক্রিয়া আরম্ভ করলে দ্রুত বীর্যপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এক্ষেত্রে নারী সঙ্গীরও কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। পুরুষ সঙ্গী মূহুর্তের জন্য থেমে গেলে অধৈর্য্য হওয়া যাবে না এবং বারবার ক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। চুড়ান্ত পরিতৃপ্তির জন্য এতটুকু Interrupt মেনে নিতে হবে।
৩) হাঁপিয়ে যাওয়া বা ক্লান্ত হয়ে যাওয়াঃ
হাঁপিয়ে যাওয়া বা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া পুরুষের আরেকটি সমস্যা। এমন অনেক পুরুষ আছে যাদের দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা খুব একটা নেই, কিন্তু হাঁপিয়ে যাওয়া বা ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে। হাঁপিয়ে গেলে বা ক্লান্ত হয়ে গেলে দীর্ঘ সময় ক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই তাদের জন্য পরামর্শ হলো নিয়মিত Freehand Exercise (সাধারণ ব্যায়াম) করা ও কাঁচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস করা। কাঁচা ছোলা অবশ্যই খোসা সহ খেতে হবে। কাঁচা ছোলা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে, শরীরকে শক্ত-পোক্ত করে তোলে ও দম বৃদ্ধি করে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ঘোড়ার কথা বলা যেতে পারে। ঘোড়াকে ছোলার ভূষি (ছোলার খোসা) ভিজিয়ে খাওয়ানো হয়। কারন ঘোড়াকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, অনেক দৌড়াতে হয়। ঘোড়া যেন হাঁপিয়ে না যায় বা ক্লান্ত না হয় সে জন্যই ঘোড়াকে নিয়মিত ছোলার ভুষি খাওয়ানো হয়।
এছাড়া আরও একটি খাবার আপনাকে শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। সেটা হলো ডিম। মিলনের আগে হাঁস বা মুরগীর ডিম “হাফ বয়েল” করে খেতে পারেন। মনে রাখবেন ডিম সিদ্ধ করে নয়, “হাফ বয়েল” করে, যাতে ডিমের কুসুম নরম থাকে। এটি Penis-কে উত্তেজিত করতে ও শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
এবার আসুন জানার চেষ্টা করি, মিলনের সময় নারীরা যেসব সমস্যার সম্মূখীন হন, সেগুলো কিভাবে সমাধান করা যেতে পারেঃ
১) উত্তেজনা থাকে কিন্তু Vagina-এর পিচ্ছিলতা কমে যাওয়াঃ
নারীদের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা দেখা যেতে পারে তা হলো, নারীদের উত্তেজনা থাকে কিন্তু Vagina-এর পিচ্ছিলতা কমে যায়। অর্থাৎ, পুরুষ সঙ্গীর ক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা থাকলেও নারীর Vagina-এর পিচ্ছিলতা না থাকায় ক্রিয়া চালিয়ে যেতে সমস্যা হয়। এভাবে ক্রিয়া চালিয়ে যেতে থাকলে, Vagina-তে জ্বালাপোড়া করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা হয় সাধারণত বয়স ৪৫ বা তার বেশি হয়ে গেলে, এটাকে বলা হয় রজোবন্ধ বা মেনোপজ। তবে কম বয়সে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তাকে রজোবন্ধ বা মেনোপজ বলা যায় না। কম বয়সে এই সমস্যা হয় সাধারণত একটানা বেশি সময় ধরে যৌন ক্রিয়া চালিয়ে যেতে থাকলে। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে নারীরা Vagina-তে পেট্রোলিয়াম জেলী কিংবা নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। এতে Vagina পিচ্ছিল হবে সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে পরিতৃপ্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।
২) পরিতৃপ্ত না হওয়াঃ
নারীরা সাধারণত যৌনতায় অতৃপ্ত থাকে পুরুষ সঙ্গীর ব্যর্থতায়। তবে এক্ষেত্রে নারীরা যৌনকর্মের সময় যদি তাদের দৈহিক অনুভূতিগুলোতে আরো বেশি মনোযোগ দেন এবং আরো বেশি যৌন চিন্তা-ভাবনা করেন, তবে তারা চরম যৌনসুখ উপভোগ করতে পারেন। ক্রিয়া চালাকালীন সময়ে পুরুষ সঙ্গী নারীর বক্ষ স্পর্শ বা আদর করলে নারী সঙ্গী দ্রুত পরিতৃপ্ত হওয়ার পথে ধাবিত হবে।
কম বয়সী বা নতুন বিবাহিতরা এই পরিতৃপ্ত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে অনেকেই অবগত থাকে না। যৌন অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্যদিয়ে পরিতৃপ্ত হওয়ার বিষয়টি নারীরা ধীরে ধীরে অনুভব করতে শুরু করে। অনভিজ্ঞদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, একজন নারী পরিতৃপ্ত হচ্ছে সেটা কিভাবে বুঝা যাবে? সোজা উত্তর, মিলনের চরম মূহুর্তে নারীর Vagina থেকে পানি নির্গত হবে এবং এক পর্যায়ে নারী সঙ্গী নিস্তেজ হবে। যত বেশি পানি নির্গত হবে, ততবেশি পরিতৃপ্ত হবে। এই পানি নির্গত হওয়ার বিষয়টি কিছু সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার কিংবা ততোধিকবারও ঘটতে পারে।
লেখাটিতে শালীনতা বজায় রাখতে যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ কারনে স্পর্শকাতর কিছু শব্দকে ঘুরিয়ে লেখা হয়েছে। আশাকরি সহজে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। লেখা সম্পর্কে আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে মন্তব্য করতে পারেন। যাদের উপরোক্ত সমস্যাগুলো আছে তারা বর্ণিত উপায়গুলো অবলম্বন করে দাম্পত্য জীবনকে সুখী করে তুলতে পারেন।

একটি বিষয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি, আমরা লুকিয়ে পর্ণ ছবি দেখার সময় লজ্জা পাইনা, বন্ধুদের সাথে যৌনতা নিয়ে কিংবা পর্ণস্টারদের নিয়ে রগরগে আলোচনা করতে লজ্জা পাইনা, কিন্তু এই লেখাটি শেয়ার করতে আমাদের অনেকেই লজ্জা পাবো। এই লেখাটি কোন চটি নয়, এই লেখাটি টি থেকে আপনি জীবনের জন্য কিছু জানতে পারছেন বা শিখতে পারছেন। আপনার পাশাপাশি অন্য কেউ এটা পড়ে সচেতন হতে পারছে। এখানে কি আপনার লজ্জা করা’টা আদৌ সাজে? অহেতুক লজ্জা না করে নিজে সচেতন হোন, এবং অন্যকেও সচেতন করুন।

Pages